Tuesday, August 19, 2014

* সালিশী ব্যবস্থার আইনগত ভিত্তি **

* সালিশী ব্যবস্থার আইনগত ভিত্তি **

সালিশী ব্যবস্থা কোন সুষ্পষ্ট আইনের উপর প্রতিষ্টিত নয়। এটি একটি বিবাদ নিরসন মূলক সামাজিক ন্যায় বিচার প্রক্রিয়া। তবে বাংলাদেশে প্রচলিত কোন কোন আইনে সালিশী ব্যবস্থার উল্লেখ পাওয়া যায়। সল্প আইনীরীতি ও প্রতিষ্টিত প্রথা হিসেবে সালিশী ব্যবস্থা একটি শক্তিশালী সামাজিক ভিত্তির উপর দাঁড়িয়ে আছে। 

যে সকল আইনে সালিশী ব্যবস্থা সম্পর্কে উল্লেখ রয়েছে, তা হল:-


১। ফৌজদারী কার্যবিধি ১৮৯৮ এর ৩৪৫ ধারা মতে, কিছু কিছু অপরাধ আদালতের অনুমতি নিয়ে বা এমনিতেই সালিশী ব্যবস্থায় আপোস নিষ্পত্তি করা যাবে।


২। দেওয়ানী কার্যবিধি ১৯০৮ এর ৮৯(ক) ধারা মতে, পক্ষগণ সম্মত হলে দেওয়ানী আদালতে বিচারাধীন মামলা সংশ্লিষ্ট আদালতের অনমতি নিয়ে সালিশী ব্যবস্থায় নিষ্পত্তি করা যেতে পারে।


৩। পারিবারিক আদালত অধ্যাদেশ ১৯৮৫ এর ১০ ধারা মতে, পারিবারিক আদালতে বিচারাধীন তালাক, ভরণপোষণ, দেনমোহর, অভিভাবকত্ব ও দাম্পত্য জীবন পূণরূদ্ধার ইত্যাদি ৫টি বিষয়ে বিচারাধীন মামলার রায় ঘোষণার পূর্বে যে কোন সময়ে পক্ষগণ সালিশী ব্যবস্থার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করতে পারবে।


৪। মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ ১৯৬১ এর ৬ ধারা মতে, স্ত্রী বর্তমান থাকতে ২য় বিয়ে করতে সালিশী পূর্বানুমতি গ্রহণ করতে হবে।

জায়গা-জমি বা সম্পত্তি দান করার নিয়ম

সম্পত্তি দান (Property Donate)
দানকে মুসলিম আইনে হেবা বলা হয়। কারো নিকট হতে প্রতিদান ব্যতীত অর্থাৎ বিনিময় ছাড়া কোন কিছু গ্রহণ করাই হলো দান। সম্পত্তি হস্তান্তর আইন ১৮৮২ (টিপি এ্যাক্ট) এর ১২২ ধারা অনুসারে সম্পত্তি দাতা কোন ব্যক্তিকে তাৎক্ষণিকভাবে কোন সম্পত্তি হস্তান্তর করলে এবং গ্রহীতা বা গ্রহীতার পক্ষে কোন ব্যক্তি ঐ সম্পত্তি গ্রহণ করলে তাকে দান বলা হয়। তবে দান বৈধ হতে হলে ৩টি শর্ত পূরণ করতে হয় –
  • দাতা কর্তৃক দানের (ইজাব) ঘোষণা প্রদান।
  • গ্রহীতা তার পক্ষ হতে দান গ্রহণ করা বা স্বীকার করা।
  • দাতা কর্তৃক গ্রহীতাকে দানকৃত সম্পত্তির দখল প্রদান।
 
এছাড়া উক্ত দানের মধ্যে নিম্নোক্ত উপাদানসমূহ থাকতে হবে।
  • দাতাকে সুস্থ মস্তিষ্কের সাবালক ব্যক্তি হতে হবে।
  • দাতার জীবনকালের মধ্যে দান কার্য সম্পন্ন হতে হবে।
  • দান গ্রহণের পূর্বে দাতার মৃত্যু হলে দান বাতিল বলে গণ্য হবে।
  • দানের সময় সম্পত্তিতে দাতার মারিকানা ও দখল থাকতে হবে।
  • দান স্বেচ্ছায় এবং পণবিহীন হতে হবে।
  • দান গ্রহীতা মানসিক ভারসাম্যহীন বা নাবালক হরে তার পক্ষে অভিভাবক দান গ্রহণ করতে পারবেন। দান যে কেউ গ্রহণ করতে পারেন।
  • মুসলিম আইন অনুযায়ী দাতা তার সমুদয় সম্পত্তি যে কাউকে দান করতে পারেন। দায়ভাগ মতে একজন হিন্দু যাদের ভরণপোষণে আইনত বাধ্য তাদের জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা রাখার পর বাকী সম্পত্তি দান করতে পারেন।
  • দখল হস্তান্তরের পূর্বে দান প্রত্যাহার করা যায়। দখল হস্তান্তরের পরে দান প্রত্যাহারের জন্য আদালতের ডিক্রি লাগবে।
  • দানকারী ঋণের দায় এড়ানোর বা অন্য কোন অসৎ উদ্দেশ্যে প্রতারণামূলকভাবে দান করলে, পাওনাদারের আবেদনে ঐ দান বাতিলযোগ্য হতে পারে।
  • মৃত্যুশয্যাকালীন দান উইলের ন্যায় কার্যকরী হবে অর্থাৎ ঐ দান অনাত্মীয়ের অনুকূলে করা যাবে কিন্তু মোট সম্পত্তির ১/৩ ভাগের বেশী দান করা যাবে না। তবে উত্তরাধিকারীগণের সম্মতি থাকলে অনাত্মীয়কে ১/৩ ভাগের অধিক সম্পত্তি দান করা যাবে। এ অবস্থায় কোন উত্তরাধিকারীকে দান করা যাবে না।
  • রেজিস্ট্রেশন (সংশোধন) আইন ২০০৪ এর ৭৮এ ধারা এবং সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের ১২৩ ধারা অনুযায়ী দান লিখিত ও রেজিস্ট্রিকৃত হতে হবে।
  • অজাত ব্যক্তি বরাবরে দান করলে দানের তারিখ হতে ৬ মাসের মধ্যে সে জন্ম গ্রহণ কররে সে দান বৈধ হবে।
 
রেজিস্ট্রেশন এর নিয়ম: (Registration Process)
উক্ত সম্পত্তি দানকৃত হলেও রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক। রেজিস্ট্রেশন (সংশোধন) আইন ২০০৪ এ নতুন সংযোজিত ৭৮এ ধারা অনুসারে স্থাবর সম্পত্তির দানপত্র দলিল অবশ্যই রেজিস্ট্রি করতে হয়। দান দলিল রেজিস্ট্রেশন ফি নিম্নরূপ:
স্বামী-স্ত্রী, পিতা-মাতা-সন্তান, দাদা-দাদী ও নাতি-নাতনী, সহোদর ভাই-ভাই, সহোদর বো-বোন এবং সহোদর ভাই ও সহোদর বোনের মধ্যে যে কোনো স্থাবর সম্পত্তির দানপত্র দলিল রেজিস্ট্রি ফি
১০০ টাকা
উল্লিখিত সম্পর্কের বাইরের ব্যক্তিবর্গের মধ্যে সম্পাদিত দানপত্র দলিল রেজিস্ট্রির ফি হবে কবলা দলিল রেজিস্ট্রির জন্য প্রযোজ্য ফি’র অনুরূপ।
 
জীবন স্বত্ত্বে দান দলিল রেজিস্ট্রেশন ফি: (Donation Document Registration Fee)
স্প্যাম্প এ্যাক্ট ১৯০৮ এর ৫৮ নং আর্টিক্যাল অনুসারে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, মসজিদ, মাদ্রাসা, কবরস্থান (মুসলিম ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান) এর জন্য জীবন স্বত্ত্বে দানের বিধান হলো – যে প্রতিষ্ঠানের নামে সম্পত্তি দান করা হবে সে প্রতিষ্ঠান ঐ সম্পত্তি শুধু ভোগ-দখল করতে পারবে, সম্পত্তি কোনরূপ হস্তান্তর করতে পারবে না। এরূপ জমির ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ করতে হবে দানকারীর নামে। কোন কারণে ঐ প্রতিষ্ঠানটি কার্যকর না থাকলে সম্পত্তি দানকারীর মালিকানায় চলে যাবে এবং দান দলিল স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে।
স্ট্যাম্প ফি
২%
রেজিস্ট্রেশন ফি
২.৫%
ই ফিস
প্রযোজ্য
 
হেবা-বিল এওয়াজ: (Donate by Exchange)
মুসলিম আইন অনুসারে কোন কিছু বিনিময় নিয়ে দান করাকে বলে এওয়াজ বা হেবাবিল-এওয়াজ। সম্পত্তি হস্তান্তর আইন ১৮৮২ এর ১১৮ ধারা অনুসারে দু’জন ব্যক্তি যে ক্ষেত্রে পরস্পর নিজেদের মালিকানাধীন কোন জিনিসের মালিকানা হস্তান্তর করে সেক্ষেত্রে কোন একটি জিনিস টাকা না হলে সে আদান-প্রদানকে বলে এওয়াজ বা বিনিময়। এতে বিক্রয় চুক্তির উপাদান বিদ্যমান থাকায় এটি মূলত এক ধরনের বিক্রয়। এওয়াজ দলিলে বর্ণিত সম্পত্তির একজন দাতা তার নিজের সম্পত্তি অপরজনকে দেওয়ার পর তার প্রাপ্য সম্পত্তি তিনি না পেলে তিনি তার প্রদত্ত সম্পত্তি ফেরত পাওয়ার অধিকারী হবেন। হেবা বিল এওয়াজ অগ্রক্রয়যোগ্য নয়।
 
হেবা-বিল-এওয়াজ এর উপাদানসমূহ: (Elements of Donate by Exchange)
  • গ্রহীতাকে হেবা গ্রহণের বিনিময়ে দাতাকে অবশ্যই কিছু দিতে হবে।
  • দানের মাধ্যমে নিজেকে সম্পূর্ণরূপে নিঃস্বত্বে পরিণত করতে হবে।
  • হেবা-বির এওয়াজের ক্ষেত্রে দখল দান আবশ্যক নয়।
  • হেবা-বিল-এওয়াজ প্রত্যাহারযোগ্য নয়।

সম্পত্তি দান করতে চাইলে...

আবদুল জলিলের একটি মাত্র মেয়ে। আর কোনো সন্তান নেই তাঁর। বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করেন তাঁর মেয়ে। আবদুল জলিল তাঁর সব সম্পত্তি মেয়েকে দিয়ে যেতে চান। কিন্তু তাঁর দুই ভাই এবং ভাইয়ের ছেলেরা জীবিত। তাঁর ভাই কিংবা ভাইয়ের ছেলেরা তাঁর সম্পত্তির অংশীদার হোক, এটি তিনি চান না। এখন তিনি কী করবেন? তাঁর জীবিতাবস্থায় কি তাঁর একমাত্র মেয়েকে সম্পত্তির মালিক করে দিতে পারবেন? এর সমাধান আছে আইনে। আইন অনুযায়ী, আবদুল জলিলকে জীবিতাবস্থায় তাঁর সম্পত্তি মেয়েকে দান করে যেতে হবে। মুসলিম আইনে দানকে হেবা বলা হয়।

দান কীভাবে করতে হয়
সাধারণত দানের মাধ্যমে একজন সম্পত্তির মালিক তাঁর ওয়ারিশ কিংবা অন্য যে কাউকে সম্পত্তি হস্তান্তর করতে পারেন। এটি আইন স্বীকৃত। সাধারণত কেনাবেচার ক্ষেত্রে দামের বিনিময় হয়, কিন্তু দানের ক্ষেত্রে এ রকম বিনিময় হয় না। দান করতে হলে দাতার এবং গ্রহীতার সম্পূর্ণ ইচ্ছা ও সম্মতি থাকতে হয়। দান বা হেবা করতে হয় নিঃস্বার্থ। তবে দান করার জন্য তিনটি শর্ত পূরণ করতে হয়। প্রথমত, হেবা বা দানকারীকে দানের ঘোষণা দিতে হবে অথবা পাওয়ার অব অ্যাটর্নি বা আমমোক্তারনামা করেও ঘোষণা দিতে পারেন। দ্বিতীয়ত, যাঁকে হেবা বা দান করা হচ্ছে, তাঁর দ্বারা সম্পত্তি গ্রহণ করতে হবে। আর তৃতীয় শর্ত হচ্ছে, দানকৃত সম্পত্তির দখল সঙ্গে সঙ্গেই হস্তান্তর করা। এখন ওপরের ঘটনায় আবদুল জলিল তাঁর মেয়েকে সব সম্পত্তি দানপত্রের মাধ্যমে দান করে দিয়ে যেতে পারেন। দান করে দিলে তাঁর মেয়েকে ওই সম্পত্তি সঙ্গে সঙ্গে হস্তান্তর করতে হবে। নাবালক বা অপ্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিকে সম্পত্তি দান করা যায়, তবে হস্তান্তর করা যাবে না, যত দিন না ও প্রাপ্তবয়স্ক হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে বৈধ অভিভাবককে ওই সম্পত্তি হস্তান্তর করতে হবে। পরবর্তী সময়ে নাবালক সন্তান প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর সম্পত্তি হস্তান্তর করতে হবে।
 
দান আর উইল এক বিষয় নয়
অনেকে মুসলিম আইনে দানকে উইলের সঙ্গে মিলিয়ে ফেলেন। মনে রাখতে হবে, উইল জীবিতাবস্থায় কার্যকর করা যায় না। একমাত্র উইল ঘোষণাকারীর মৃত্যুর পর উইল কার্যকর হয়, কিন্তু দানের ক্ষেত্রে দাতার জীবিতাবস্থায় কার্যকর হয়। তবে দানের ক্ষেত্রে জীবিতাবস্থায় সম্পত্তি হস্তান্তর করে দিতে হবে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জেনে রাখতে হবে, মুসলিম আইনে উইলের ক্ষেত্রে উত্তরাধিকারীদের অনুমতি ছাড়া সম্পত্তির এক-তৃতীয়াংশের বেশি কার্যকর হবে না, কিন্তু হেবা বা দান পুরো সম্পত্তিই করা যাবে।

করতে হবে নিবন্ধন

দানের দলিল নির্ধারিত ফরমে এবং স্ট্যাম্পে করতে হবে। দানের দলিল অবশ্যই রেজিস্ট্রি করে নিতে হবে। ২০০৫ সালের ১ জুলাইয়ের পর থেকে হেবা বা দানকৃত সম্পত্তি রেজিস্ট্রি করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
 
দান কি বাতিল করা যায়
একবার দান করার পর এবং সম্পত্তি হস্তান্তর করার পর আদালতের ডিক্রি ছাড়া বাতিল করা যাবে না। তবে দানপত্র সম্পাদন করলেও সম্পত্তিটি হস্তান্তর না করা হলে কিছু ক্ষেত্রে দানপত্র বাতিল করা যায়। যেমন স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দান, দানগ্রহীতা যদি মারা যায়, যখন দাতা কিছুর বিনিময়ে গ্রহণ করবে, সম্পত্তি যখন ধ্বংস হয়ে যাবে প্রভৃতি।
লেখক: আইনজীবী, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট

মুসলিম আইনে হেবা বা দান

কখন দান করা যায়: দান সাধারণত দু,অবস্থায় করা যায়। যেমন -
(ক) সুস্থ অবস্থায়
(খ) মৃত্যু ব্যাধিগ্রস্ত অবস্থায়।

সুস্থ অবস্থায় দান: সাধারণত দাতা যখন সুস্থ থাকেন, তখনই তিনি দান করতে পারেন এবং সে দান, দানের শতাবলী - সাপেক্ষে কাযকরী হয়ে থাকে।

দানের প্রমাণ: মুসলিম আইন অনুসারে একজন সম্পত্তির মালিক তার মালিকাধীন সম্পত্তির সবটা কিংবা আংশিক হেবার মাধ্যমে দান করতে পারেন।
দাতার দানসংক্রান্ত বিষয় যারা প্রমাণ করতে চায় তাদেরকে এটি প্রমাণ করতে হবে যে দানটি যথারীতি সম্পাদিত হয়েছে।দখলের বিষয়টি যতটুকু সম্ভব ততটুকু অপির্ত না হলে দানটি বৈধ হবে না।এছাড়া দাতা এবং গ্রহীতা উভয়ই দানটি মৌখিকভাবে হয়েছিল বলে স্বীকার   করেছেন এবং গ্রহীতা দানটি গ্রহণ করেছেন, এবং অন্যান্য প্রমাণেও দেখা যায় যে, দানটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল, সেক্ষেত্রে দান করার বিষয়টি প্রমানিত বলে গণ্য হবে।একইভাবে হেবা বিল-এওয়াজের ক্ষেত্রে দখল কালের আবশ্যকতা নেই।কেবলমাত্র প্রতিদানটি প্রকৃতভাবে প্রদত্ত হয়েছে কিনা এবং তা কাযগ্রহীতা কতৃর্ক গ্রহণ প্রমাণই যথেষ্ঠ।

দানটি পরে হলে,
হেবার নিয়মানুযায়ী হেবার ঘোষণার উপর দখল অর্পণ ছাড়া হেবা সম্পূর্ণ হয় না।তবে অনেক ক্ষেত্রে পরে অর্পণ করলে চলে। 
কে প্রশ্ন করতে পারে?
দাতা বা তার মাধ্যমে দাবীকারী ব্যক্তি, অথবা দানগ্রহীতা বা তার মাধ্যমে দাবীকারী ব্যক্তি, আগন্তুক নয়, দানের বিষয়বস্তুর হস্তান্তর সম্পকির্ত প্রশ্ন তুলতে পারে।
মৃত্যু ব্যধিগ্রস্ত অবস্থায় দান: মৃত্য ব্যাধিগ্রস্ত অবস্থায় দান করা বৈধ নয়।কিন্তু দানকৃত সম্পদ গ্রহীতার কাছে হস্তান্তর করলে সবাধিক ১/৩ অংশ সম্পত্তিতে তা কাযকর হবে এবং হস্তান্তরের আগেই দাতা মারা গেলে দানটি বাতিল বলে গণ্য হয়।
দান প্রমানের দায়িত্ব: মুসলিম অাইনের বিধান মতে একজন সম্পত্তির মালিক তার মালিকাধীন সবটা কিংবা আংশিক হেবার মাধ্যমে দান করতে পারেন।দাতার দান সংক্রান্ত বিষয় যারা প্রমাণ করতে চায় তাদেরকে এটি প্রমাণ করতে হবে যে দানটি যথারীতি সম্পাদিত হয়েছে।দখলের বিষয়টি    যতটুকু সম্ভব ততটুকু অপির্ত না হলে দানটি বৈধ হবে না।অনুরুপভাবে হেবা-বিল-এওয়াজের ক্ষেত্রে দখল কালের অাবশ্যকতা নেই।কেবলমাত্র প্রতিদানটি প্রকৃতভাবে প্রদত্ত হয়েছে কিনা এবং তাত্‍ক্ষণিকভাবে দাতা দান সম্পত্তি দানগ্রহীতার অনুকূলে অপির্ত এবং কাযর্গ্রহীতা দ্বারা গ্রহণ প্রমাণই যথেষ্ট ।অথাত্‍ যখন দাতা এবং গ্রহীতা উভয়ই দানটি মৌখিকভাবে হয়েছিল বলে স্বীকার করেছেন এবং গ্রহীতা দান করেছেন, এবং অন্যান্য প্রমাণে দেখা যায় যে দানটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল, সেক্ষেত্রে দান করার বিষয়টি প্রমাণিত বলে গণ্য হবে।
দানটি পরে হলে হেবার নিয়মানুযায়ী হেবার ঘোষনার উপর দখল অর্পণ ছাড়া হেবা সম্পূর্ণ হয় না।তবে অনেক ক্ষেত্রে পরে অর্পণ করলে চলে।

কে প্রশ্ন তুলতে পারে?
দানগ্রহীতা বা তার মাধ্যমে দাবীকারী ব্যক্তি, অাগন্তুক নয়, দানের বিষয়বস্তুর হস্তান্তর সম্পকিত প্রশ্ন তুলতে পারে।

মুশাহ বা অবিভাজ্য সম্পত্তি: মুশাহ শব্দের অর্থ অবিভক্ত অংশ।কোন একজন মুসলমানের স্থাবর কিংবা অস্থাবর সম্পত্তিতে অবিভক্ত অংশ থাকলে একে 'মুশাহ' বলা হয়।বিভাগযোগ্য বস্তু বা সম্পত্তিতে ভাগ না হয়ে থাকলে সেখানে বিশৃংখলার সৃষ্ট হতে পারে।সেখানে যাতে বিশৃংখলার সৃষ্টি হতে না পারে তা রোধই মূলত মুশার উদ্দেশ্য।কেননা এটি দখলের সাথে সম্পকির্ত। যে সম্পত্তি যে স্থলে ভাগ করা যায় সেখানে তা ভাগ করে দখল দান করলে বিশৃংখলা হতে রক্ষা পাওয়া যায়।
ডি.এফ মোল্লার মতে "Musha is an undivided share in Property either movable or immovable"

সম্পত্তি অবিভাজ্য হলে মুশাহর দান:
সম্পত্তি যদি ভাগ না করা যায় সে সম্পত্তির প্রাপ্য অবিভক্ত অংশ (মুশা) হেবা বা দান করা যায়।অথাত্‍ সম্পত্তিটি এই প্রকৃতির হয় যে, ভাগ বাটোয়ারা করার চাইতে অবিভাজ্য অবস্থায় এর ভোগ দখল বেশী লাভজনক ,তবে মুশাহ বা অবিভক্ত সম্পত্তির দান বৈধভাবে করা যাবে।

উদাহরণ:১) কবির একটি বাড়ীর মালিক। সে নইমকে উক্ত বাড়ী এবং পার্শ্ববতী একটি বাড়ীর মালিকের সাথে যৌথভাবে ব্যবহূত  একটি সিড়ি ব্যবহ্রারের অধিকার হেবা করে দিল।উক্ত সিড়িতে কবিরের অবিভক্ত অংশের হেবা বা দান বৈধ।কারণ সিড়িটি বিভাগযোগ্য নয়।
২) একটি পুকুরের পানির অংশ ভাগ করা সম্ভব নয় ,কাজেই এরা অবিভাজ্য অংশ, একটি বৈধ দানের বিষয়বস্তু হতে পারে।
৩) তেমনিভাবে, একটি পুকুরের অবিভক্ত পাড় প্রকৃতিগতভাবে ভাবেই ভাগ করার চাইতে অবিভক্ত অবস্থায় সুবিধাজনকভাবে ব্যবহৃত হতে পারে।
সুতরাং উপরোক্ত অবিভক্ত সম্পত্তি অবিভক্ত অবস্থায় বৈধভাবে দান করা যাবে।
সম্পত্তি বিভাজ্য হলে মুশাহর দান:
যে সম্পত্তি ভাগ বাটোয়ারা করা যায় অথাত্‍ বিভাগযোগ্য সম্পত্তির অবিভক্ত অংশের বা মুশাহর দান অনিয়মিত (ফাসিদ)হবে কিন্তু বাতিল হবে না।দানটি অনিয়মিত, কিন্তু বাতিল না হওয়ায় পরবতীকালীন বিভাগ দ্বারা এবং দানগ্রহীতাকে তার অংশের দখল অর্পণ দ্বারা উক্ত দানকে বৈধ করা যেতে পারে।
একটি উদাহরণের মাধ্যমে বিষয়টি বোঝা যাবে :
এলাহী তার একখন্ড বিভাজ্য জমি অথচ বর্তমানে অবিভাজ্য মালেককে দান করলো।দান করলে অংশটি ভাগ বাটোয়ারা করা হলে এবং এলাহী তার হেবাকৃত অংশটুকু মালেকের বরাবরে দখল প্রদান করলো।দানটি প্রথম অবস্থায় অথাত্‍ শুরুতে অনিয়মিত ছিল বর্তমানে তা নিয়মিত হয়ে গেল।একবার দখল গৃহীত হলেই দানটি বৈধ হবে।এই নিয়মের কারণ হল ,যা করা হয়েছে, তা সম্পকে যাতে কোন দ্বিধাদন্ধ না থাকে।যদি সম্পত্তিটি পৃথকভাবে দখল করা সম্ভব হয় কিন্তু তা স্বত্বেও দাতা তার  অন্য দখলীয় অংশ হতে যা দিতে চান, তা পৃথক না করেন, তাহলে কেউই বলতে পারবেন না যে তিনি কি দিতে চেয়েছিলেন এবং এর ফলে অবশ্যই দ্বিধার উদ্রেক হবে।

ব্যতিক্রমসমূহ:
অবিভক্ত অংশের হেবা যদি ও তা বিভাগযোগ্য সম্পত্তির অংশ বিশেষ তবু ও হেবা গঠনের মুহুর্ত হতে তা বৈধ হবে যদি ও নিম্ন বণির্ত ক্ষেত্রসমূহ প্রদত্ত অংশটি বিভক্ত করা হয়নি এবং দান গ্রহীতাকে তা হস্তান্তর করা হয়নি ।

শরীকের বরাবরে:
যেখানে দানটি একজন সহ উত্তরাধিকারী কর্তৃক অন্য একজন সহ উত্তরাধিকারীকে সম্পাদন করা হয়েছে সেক্ষেত্রে দানটি বৈধ হবে।
যেমন একজন মুসলিম মহিলা,মা, একছেলে এবং একমেয়ে রেখে মারা যায়।উত্তরাধিকারী সূত্রে ঐ মহিলার সম্পত্তির ষষ্ঠমাংশ তার মা পায়।তার মা তার ঐ অবিভক্ত ষষ্ঠমাংশ মরহুমার ছেলে এবং মেয়ের বরাবরে হেবা করে দেয়।প্রিভি কাউন্সিল এই হেবাকে সিদ্ধ ঘোষণা দেয়।কোন সমাজের উন্নতিশীল অবস্থায় মুশাহর মতবাদটি সম্পূর্ণভাবে অনুপযোগী এবং একে অবশ্যই খুবই সীমিত গন্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ করে রাখা উচিত।একটি দান অবিভাজ্য হওয়ায় সম্পত্তির কোন একটি অংশের দখল দানটিকে কাযর্কর করতে পারে।

জমিদারী বা তালুকের অংশ:
যেখানে দানটি একটি জমিদারী বা তালুকের অংশ সেখানে মুশাহ এর ব্যতিক্রম প্রযোজ্য।অথাত্‍  কোন জমিদারী বা তালুকের অংশ দান করা হলে দানটি বৈধ হবে। যেমন ক,খ, ও গ একটি জমিদারীতে সহ-অংশীদার। প্রত্যেক শেয়ার সরকার কতৃর্ক পৃথকভাবে হিসাবকৃত ও আদায় রহিতে পৃথক নম্বরে লিখিত এবং প্রত্যেক শেয়ারের স্বত্বাধিকারী খাজনায় একটা নির্দিষ্ট অংশ সংগ্রহের অধিকারী।ক জমিদারী ভাগ না করেই খ কে তার অংশটি দান করলো।
দানটি বৈধ।

বাণিজ্যিক শহরে লাখেরাজ সম্পত্তি:
যেখানে হেবাটি একটি বাণিজ্যিক শহরে লাখেরাজ সম্পত্তির অংশ সেখানে দানটি বৈধ হবে। যেমন ক এর রেঙ্গুনে একটি বাড়ী অাছে। সে এর ১/৩ অংশ খ কে দান করলো ।সম্পত্তিটি একটি বড় বাণিজ্যিক শহরে অবস্থিত বলে প্রদত্ত হেবা বৈধ।
কোম্পানীর শেয়ার বা অংশ:
যেখানে দানটি কোন কোম্পানীর শেয়ার বা অংশ।যেমন ক একটা কাযের্র অংশীদার। সে তার অংশের শেয়ারটি খ কে দান করলো।যতক্ষণ পযর্ন্ত  না অংশটি বিভক্ত হচ্ছে এবং খ কে দখল অর্পণ না করা হচ্ছে ততক্ষণ পযর্ন্ত  ওটি বৈধ নয়।
অপিত অবশিষ্টাংশের বা দানে অন্যকে দান: (Vested remainder or gift over):
মুসলিম আইনের কোন মতবাদেই অপিত অবশিষ্টাংশের দান বা দানে অন্যকে দান বৈধ নয়।সম্পত্তির বস্তুর উপর আইন কেবলমাত্র নিরংকুশ দখল, উত্তরাধিকারযোগ্য এবং সময়ের দৃষ্টিকোণ হতে অসীম অধিকারকে স্বীকৃতি দেয় ; এবং যেক্ষেত্রে বস্তুর দানে এধরনের দখল ও অধিকারের সাথে অসংগতিপূর্ণ শর্ত আরোপ করা হয়, সেক্ষেত্রে শর্তটি পরিপন্থীরুপে প্রত্যাখাত হবে।
যেমন উদাহরণস্বরুপ বলা যায়, ক যদি কোন সম্পত্তি খ এবং গ কে এই শতে দান করে যে, তাদের যে কেউ ছেলে সন্তান না রেখে মারা গেলে তার অংশটি অন্যজনের কাছে চলে যাবে।আগে শিয়া আইনে এধরনের দান বৈধ ছিল।কিন্তু পরবতীর্তে বিভিন্ন সিদ্ধান্তে বলা হয়েছে যে,এই নীতি প্রযোজ্য হবে না এবং এইভাবে অন্যকে দান ( gift over  ) বাতিল হবে এবং ক  ও খ শর্তহীনভাবে তাদের স্ব স্ব অংশ প্রাপ্ত হবে।
সুন্নী আইন অনুসারে এ ধরনের দানে আরোপিত শতটি বাতিল হবে এবং ক ও খ দানকৃত সম্পত্তিতে তাদের প্রত্যেকের অংশ শর্তহীনভাবে পাবেন এবং এটি তাদের নিজ নিজ ওয়ারিশদের উপর বতাবে।

 দান প্রত্যাহার বা রদ: দান রদ বা প্রত্যাহার করা যায় কিনা প্রশ্নে জবাব এক কথায় দেয়া দুস্কর।তবে বলা যায় ক্ষেত্রবিশেষে তা রদযোগ্য।নিম্নে এ বিষয়ে আলোচনা করা হলো:
দানের বস্তু দখলার্পণের আগে যে কোন সময় তা রদ করা হয়।কারণ দখল প্রদানের আগে দানটি পূর্ণভাবে কাযকরী হয় না।একবার দখল অপিত হলে, আদালতের ডিক্রী ছাড়া অন্য কিছুই দানটি রদের জন্য যথেষ্ঠ হবে না।দাতা কর্তৃক দান প্রত্য্যাহার বা রদের ঘোষণা কিংবা দান রদের জন্য মোকাদ্দমা করলেই দান রদের জন্য যথেষ্ঠ হবে না।যতক্ষণ পযর্ন্ত না আদালত ডিক্রি প্রদান করেন,ততক্ষণ পযর্ন্ত দান গ্রহীতা দানের বিষয়বস্তুটি ভোগ এবং হস্তান্তর করতে পারেন।
তবে নিম্নলিখিত ক্ষেত্র ব্যতীত দানের বিষয়বস্তু দানগ্রহীতার বরাবরে হস্তান্তর করলে তা রদের জন্য আদালতের ডিক্রী প্রয়োজন।
১) স্বামী স্ত্রীকে এবং স্ত্রী স্বামীকে দান করলে;
২) যেক্ষেত্রে যাকে দান করা হয়, সেব্যক্তি দাতার সাথে নিষিদ্ধ স্তরের ভেতরে সম্পকির্ত হয়;
৩) যখন দাতা বা দানগ্রহীতা মারা যায়;
৪) যখন দানের বস্তুটি দান গ্রহীতা কর্তৃক দান, বিক্রয় বা অন্যভাবে হস্তান্তর করা হয়ে থাকে।
৫) যখন দানের বস্তুটি দান হারিয়ে যাবে বা ধংস্বপ্রাপ্ত হবে;
৬) যে কোন কারণেই হোক, যখন দানের বস্তুর মূল্য বৃদ্ধি পাবে;
৭) দান সম্পত্তির এমন পরিবর্তন হয়েছে, যাতে তা চিহ্নিত করা যায় না।যেমন সরিষা ভাংগিয়ে তেল তৈরী করা।
৮) যখন দাতা দানের বিনিময়ে কিছু গ্রহণ করবেন।
৯) যখন দানের মূখ্য উদ্দেশ্য ধমীয় বা আধ্যাত্নিক, কারণ এক্ষেত্রে দানটি একটি ছদকা ছাড়া আর কিছুই নয়।
মুসলিম আইনে দান প্রত্যাহার বা রদ করার অধিকারটি দাতার একটি ব্যক্তিগত অধিকার এবং তার মৃত্যুর পর তার উত্তরাধিকারীরা এই দান বাতিল করতে পারে না।দান রদে গ্রহীতার আইন নয়, দাতার আইন প্রযোজ্য।একমাত্র আদালতের ডিক্রী দ্বারাই রদ সম্পূর্ণ হয়, দান রদের জন্য কেবলমাত্র দায়েরই যথেষ্ট নয়।সুতরাং দান রদের ডিক্রীর অাগে দাতার মৃত্যু হলে দাতার মৃত্যুর সংঙ্গে দান রদের অধিকার শেষ হয়ে যায় এবং যদি আপীল চলাকালে ও দাতার মৃত্যু হয়, তবে যদি প্রথম বিচারকারী আদালতে দান রদের মোকাদ্দমা কারিজ হয়ে থাকলে, সেক্ষেত্রেও দাতার মৃত্যুর ঐ অধিকারটি নষ্ট হয়ে যাবে।কিন্তু যদি মোকদ্দমাটি দানের দলিল বাতিলের জন্য হয়ে থাকে, তবে বাদীর মৃত্যু হলে ও মোকাদ্দমা বা সেই অধিকার টিকে থাকবে এবং তার স্থলে তার বৈধ প্রতিনিধিদেরকে স্থলাভিষিক্ত করা যাবে।
যখন দাতা কর্তৃক গ্রহীতাকে দখল অর্পণ করা হয়েছে,তখন একমাত্র আদালতের ডিক্রী দ্বারাই দান রদ করা যাবে।ডিক্রী না হওয়া পযর্ন্ত গ্রহীতা দানের বস্তু ভোগ ও হস্তান্তর করতে পারবে।অবশ্য হেবা যদি প্রতারণামূলে হয়ে থাকে তবে সেক্ষেত্রে উত্তরাধিকারীগণের মামলা করার অধিকার থাকে।
আইনের মাধ্যমে দান বাতিল বা প্রত্যাহৃত হতে পারে ।সে আইন হচ্ছে চুক্তি আইনের ১৯ ধারা। চুক্তি আইনের ১৯ ধারায় বলা হয়েছে যে, যেক্ষেত্রে জোর করে অযথা প্রভাব খাটিয়ে বা প্রতারণা করে বা মিথ্যা বিবরণ দিয়ে যখন অঙ্গীকার আদায় করা হয় তখন সেই অঙ্গীকারভিত্তিক চুক্তি আহত ব্যক্তির ইচ্ছাধীনে বাতিলযোগ্য।দাতা যদি একারণে একজন বৃদ্ধা এবং অশক্ত মহিলা হন কিংবা তিনি যদি পদার্নশীল হন,তবে দানগ্রহীতাকে প্রমাণ করতে হবে যে, এই দান স্বেচ্ছামূলক।যেক্ষেত্রে দাতার অবস্থা এমন যে তিনি দানগ্রহীতার প্রভাবাধীনে আছেন, সেক্ষেত্রেও দানগ্রহীতাকে প্রমাণ করতে হয় যে তা সেচ্ছামূলক।

হেবা -বিল-এওয়াজ প্রত্যাহার:
হেবা-বিল এওয়াজে যে পযর্ন্ত না দান গ্রহীতা বিনিময় প্রদান করে সে পযর্ন্ত তা প্রত্যাহারযোগ্য।কিন্তু এওয়াজ প্রাপ্ত হলে তা অপ্রত্যাহারযোগ্য হয়ে যাবে।
তথাপি নিম্নলিখিত ক্ষেত্রসমূহে তা প্রত্যাহারযোগ্য হতে পারে।
১) যদি হেবার এক অংশের এওয়াজ প্রাপ্ত হওয়া যায়, তাহলে অন্য অংশ প্রত্যাহার করা যাবে।
২) পিতা নাবালেগ সন্তানের পক্ষের অন্য কাউকেও সম্পত্তি দান করলে, তা নাবালেগ কর্তৃক কিংবা দান গ্রহ্রীতা কতৃর্ক প্রত্যাহৃত হতে পারে।
৩) যদি সম্পত্তি বেদখল করার জন্য সাব্যস্ত হয়, তাহলে তা দান গ্রহীতা কর্তৃক প্রত্যাহৃত হতে পারে এবং সে এওয়াজ আদায় করে নিতে পারে ।
৪) যদি এওয়াজ অন্যের বিরুদ্ধ দাবীক্রমে তা প্রমাণিত হয়, কিংবা আংশিকভাবে উদ্ধার করা হয় তাহলে দাতা প্রথম ক্ষেত্রে তা সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করতে এবং
দ্বিতীয় ক্ষেত্রে তা গ্রহণ করেই হেবা সম্পূর্ণ করতে পারে কিংবা তা প্রত্যাহার করতে পারে।
৫) যখন দুইজনকে হেবা দিয়ে দান করা হয়, তার মধ্যে শুধু একজনের কাছ হতে এওয়াজপ্রাপ্ত হলে দ্বিতীয় জনের অনুকূলে হেবা প্রত্যাহার করা যাবে। 
৬) যদি দান-গ্রহীতার পথ হতে অন্য কেউ এওয়াজ প্রদান করে এবং যদি দানগ্রহীতা ঐ এওয়াজ দাতার সঙ্গে ঐ এওয়াজ পরিশোধ করার জন্য কোন প্রকার চুক্তিবদ্ধ না হয়, তাহলে হেবার দাতা ঐ হেবা প্রত্যাহার করতে পারবে।

Monday, August 18, 2014

চেক সংক্রান্ত মামলা আইন

চেকের মামলা সংক্রান্ত কিছু সহজ বিষয় না জানার কারণে আমাদের অনেক সময় দুর্ভোগ পোহাতে হয়। কেননা চেকের বিষয়ে আইনে স্পষ্ট করে উল্লেখ থাকাতে এর বাইরে কিছু করার থাকেনা । তাই সময় ও আইন মোতাবেক সঠিক সময়ে বেবস্থা না নিলে বেশীরভাগ সময় পাওনাদার এর টাকা পাওয়া হয়ে উঠেনা খুদ্র ভুলের কারণে। তাই চেকের মামালা সংক্রান্ত কিছু তথ্য জেনে রাখা আমাদের সকলের উচিত।
মেয়াদ এবং কিছু তথ্য
১) একটি চেকের মেয়াদ চেকের গায়ে চেক দাতার দেওয়া উল্লেখিত বা লিখিত তারিখ হতে ৬ মাস পর্যন্ত। তাই উক্ত সময় অতিক্রান্ত হওয়ার পর ব্যাংক গ্রহণ না করার কারণে আদালতে Negotiable Instrument Act থ এর ১৩৮ ধারা অনুযায়ী আর টাকা দাবি করা যায় না। তাই ৬ মাস এর ভিতর চেক এর টাকা তোলার জন্য ব্যাংক এ উপস্থাপন করতে হয়।
২) উপরল্লিখিত নির্দিষ্ট সময়ের ভিতর উপস্থাপনে চেকদাতার একাউনট এ টাকা না থাকলে ডিসঅনার স্লিপ সংগ্রহ করে চেকের টাকা দাবি করে এক মাসের সময় দিয়ে আইনজীবীর মাধ্যমে Negotiable Instrument Act এর ১৩৮ ধারা মোতাবেক টাকা পরিশোধের দাবি জানিয়ে নোটিশ সরবরাহ করতে হয় এবং নোটিশটি ছাড়তে হয় ডিসঅনার হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে।
৩) নোটিশ প্রাপ্তির ৩০ দিন পর মামলার কারন উদ্ভব হয়। মামলার কারন উদ্ভব হওয়ার ১ মাসের মধ্যে একজন ১ম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট বা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বরাবরে লিখিতভাবে অভিযোগ দায়ের করা যায়। আর নোটিশ গ্রহণ না করলে নোটিশ ফেরত আসার তারিখ হতে এক মাসের মধ্যে অভিযোগ দায়ের করা যায়।
৪) চেকের প্রাপক বা দাবিদার এর পক্ষে তার নিজুক্তিও Attorney Holder মামলা করতে পারেন।
৫) অনেকের মনে প্রশ্ন থাকে ডিসঅনার কয়বার করাতে হয়। উত্তরটা হল একবার ডিসঅনার করালে ও মামলা করা যায়।
৬) নোটিশ সরবরাহ না করলে বা নোটিশ জারি না করে চেকের মামলা করা যায় না। নোটিশ রেজিস্ট্রি ডাকযোগে প্রাপ্তি স্বীকারোক্তি সহ জারি করাই উত্তম অথবা জাতীয় পত্রিকায় নোটিশ প্রচার করা যায়।
৭) স্থানীয় অধিক্ষেত্রঃ যে ব্যাংকে চেক উপস্থাপন করা হয় সেই ব্যাংক আদালতের যে স্থানীয় অধিক্ষেত্রে অবস্থিত সেই আদালতে মামলা দায়ের করতে হবে।
৮) যে কোন ধরনের ডিসঅনার এর কারণে মামলা দায়ের করা যায়।
৯) কোন কারণে আইনের নির্ধারিত মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে গেলে প্রেতারণার জন্য মামলা করা যায়।
১০)কখনও কোন চেক হারিয়ে গেলে সাথে সাথে নিকটস্থ থানায় জি, ডি দায়ের করে ব্যাংক এর মাধ্যমে চেক স্টপ করাতে হয়।
১১) হারান চেক উদ্ধারের জন্য মামলা করা যায়।
১২) কিছু না লিখে বা টাকার সংখ্যা না লিখে অর্থাৎ খালি চেক কখন কাওকে সরবরাহ করা উচিত নয়।